বাংলাদেশ সরকার বহু প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প (TRCMRP)’ বাস্তবায়নে চীনের সরাসরি সম্পৃক্ততা ও আর্থিক সহায়তা কামনা করেছে।
📍 বৈঠকের প্রেক্ষাপট
বুধবার (৬ মে) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর মধ্যে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই প্রস্তাব আনুষ্ঠানিকভাবে উত্থাপন করা হয়। বৈঠকটি বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই স্টেট গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত হয়।
📄 যৌথ বিজ্ঞপ্তি ও মূল বিষয়
বৈঠক শেষে দুই দেশের পক্ষ থেকে ১০ দফা যৌথ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে গুরুত্ব পেয়েছে:
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার
অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা
বিনিয়োগ বৃদ্ধি
ডিজিটাল অর্থনীতি
পানিসম্পদ ও স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা
বিশেষ করে, ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (BRI)’-এর আওতায় উন্নয়ন প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হয়েছে।
🌊 তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা
যৌথ বিবৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে বাংলাদেশ তার দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহায়তা কামনা করেছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতায় পাশে থাকার জন্য চীনকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
🕊️ রোহিঙ্গা ইস্যুতে অবস্থান
যৌথ বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকটও গুরুত্ব পায়। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে:
সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে আলোচনায় চীনের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে
প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতার কথাও জানানো হয়েছে
🌍 কূটনৈতিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ইস্যু
বাংলাদেশ পুনরায় ‘এক-চীন নীতি’-এর প্রতি সমর্থন জানায় এবং তাইওয়ানকে চীনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও উন্নয়ন কৌশলের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে।
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে উভয় দেশ দ্রুত যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং ফিলিস্তিন ইস্যুতে চীনের উদ্যোগের প্রশংসা করেছে বাংলাদেশ।
🤝 অতিরিক্ত বৈঠক ও সহযোগিতা
চীন সফরের অংশ হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান চীনের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। সেখানে:
বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি
কানেক্টিভিটি উন্নয়ন
কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদার
এই বিষয়গুলোতে দুই দেশ একমত হয়।
📌 উপসংহার
তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, কূটনৈতিক সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।